Thursday, March 29, 2018

কম খরচে ভুটান ভ্রমন

কম টাকায় ভুটান ঘুরে আসতে চান?
আকর্ষণীয় এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের দেশ ভুটান। সুন্দর পাহাড় আর পরিপাটি শহর দেখে আপনার মন ভরে যেতে পারে। তাই কোনো এক ঝলমলে রোদে আপনি সড়কপথে বেরিয়ে পড়তে পারেন ভুটানের উদ্দেশে। ঢাকা থেকে বুড়িমারী সীমান্তে দিয়া ভারতে প্রবেশ করে ওইখান থেকে বাস বা ট্যাক্সি করে ভুটান বর্ডার জয়গাঁ / ফুন্টশোলিং। ফুন্টশোলিং দিয়া ভুটান প্রবেশ করবেন।

ভুটান ভ্রমণের জন্য প্রথমেই আপনার প্রয়োজন হবে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার, যা কিনা ঢাকার গুলশান (এবং এখন অন্যান্য শাখাতেও পাওয়া যায়, যেমন চট্টগ্রাম) শাখা থেকে আপনি করে নিতে পারেন। এরপর আপনাকে বাসের টিকেট কাটতে হবে। বাসের টিকেট ট্রানজিট ভিসার কাগজপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। শ্যামলী পরিবহন ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যায়। আপনি চাইলে অন্য বাসের টিকিট ও কাটতে পারেন। বুড়িমারী সীমান্তে পৌঁছাতে সময় নেবে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা। বুড়িমারী ইমিগ্রেশন অফিস খোলে সকাল ৯টায়। বুড়িমারী ইমিগ্রেশন অফিসে কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় লাগে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ইমিগ্রেশন অফিসের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করুন ভারতে। চ্যাংড়াবান্ধা (ভারত) ইমিগ্রেশন অফিসে কাজ শেষ হতে তেমন সময় লাগে না, তাঁরা ভালোই দ্রুত কাজ করেন। ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ডলার/টাকা রুপিতে এক্সচেঞ্জ করে নিন (এখানেই ভালো রেট পাবেন)। ও হ্যাঁ, ডলার এক্সচেঞ্জের রসিদ নিয়ে নেবেন, পরে দরকার পড়তে পারে আপনার। ইমিগ্রেশন আর ডলার এক্সচেঞ্জের কাজ শেষ ট্যাক্সিতে করে চ্যাংড়াবান্ধা টু জয়গাঁও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিস (ভুটান সীমান্তের কাছে) যেতে পারেন, ভাড়া পড়বে ১০০০-১৫০০ রুপির মতো। ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিস থেকে Departure/এক্সিট সিল লাগিয়ে সোজা ভুটান।


ভুটান ইমিগ্রেশন অফিস ফুন্টশোলিং-এ অবস্থিত জাস্ট ভুটান গেটের পাশেই, এখান থেকে on-arrival ভিসা নিতে হবে, এখান থাকে শুধু থিম্পু আর পারো-এর অনুমতি পাওয়া যাবে পুনাখা, হ্যাঁ ভ্যালী, বুমথাং ও অনন্য জায়গার অনুমতি পরে থিম্পু থেকে নিতে হবে আপনাকে, মনে রাখবেন ফুন্টশোলিং ইমিগ্রেশন অফিস শুধু মাত্র বাংলাদেশি আর বিদেশি (Europe/ American etc)-দের জন্য সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে, কোনো সরকারি বন্ধ নেই। বাংলাদেশিদের ভুটানিরা খুব সম্মান করেন।

ফুন্টশোলিং ভুটান ইমিগ্রেশন অফিস থেকে on-arrival ভিসা নিয়ে আপনি চার সিটের একটি ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন (১৮০০ রুপি দিয়ে), যা সোজা চলে যায় থিম্পু। দর-দাম করে গাড়ি ভাড়া করতে হবে আপনাকে। ফুন্টশোলিং থেকে থিম্পু বাসেও যেতে পারবেন। শেষ বাসের সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট, ভাড়া ২৪০ রুপি, সময় লাগবে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা।

আপনি আগে থাকেই একটা হোটেলে রুম বুক করে রাখতে পারেন। মনে রাখা ভালো, ভুটানে সব দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট সব কিছুই রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বন্ধ হয় যায় (দু-একটি দোকান শুধু খোলা থাকে), তাই হোটেল বা রুম ঠিক আর ডিনার না করে নিলে খবর আছে।

ভুটানে দামি, কম দামি সব ধরনেরই হোটেল আছে। কিন্তু হোটেলে অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন...যেমন ৭০০-৮০০ রুপি থাকে ১৫ হাজার ++ রুপি পর্যন্ত, আপনি সর্বমিম্ন ৮০০ রুপি আর সর্বোচ্চ ১৫৪০ রুপি দামের হোটেলে থাকতে পারেন। সবগুলো হোটেলই নিশ্চিন্ত নিরাপদ।

ভুটানে যা দেখবেন: থিম্পুতে সাইট সিইং-এর জন্য উল্লেখযোগ্য ও দর্শনীয় স্থানগুলো বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু, সীমতখা ডিজং, ন্যাশনাল তাকিন সংরক্ষিত চিড়িয়াখানা, কিংস মেমোরিয়াল চড়টেন, তাসিছ ডিজং, পার্লামেন্ট হাউস, রাজপ্রাসাদ, লোকাল মার্কেট, ন্যাশনাল স্কুল অব আর্টস, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, বিবিএস টাওয়ার ছাড়া আরো অনেক কিছুই।

No comments:

Post a Comment